চরকিবাজি

Estimated read time 1 min read

আজকাল আপিসে কাজের ফাঁকে ফাঁকে হঠাৎ হঠাৎ সন্তু কোথায় যেন হারিয়ে যায়, খালি শৈশবের স্মৃতিতে তলিয়ে যায়। মনে পড়ে যায় ঠাকুমার সাথে প্রথম ইস্কুলে যাওয়ার কথা, সার্কাস দেখতে গিয়ে ভোলা কাকার সাথে প্রথম এগরোল খাওয়ার কথা, বাবার সাথে প্রথম ধরমপুরের হাটে যাওয়ার কথা। হঠাৎ হঠাৎ সন্তু আকাশ থেকে পড়ার মত অনুভব করে, সে খেয়াল করে যে সে আপিসের চার দেওয়ালের মাঝে বসে আছে। আবার আঙ্গুল চলতে থাকে কিবোর্ডে, কট কট করে শুরু হয় মাউস ক্লিক।

আজ খুব করে মনে পড়ছে ছোটবেলার হাতে গোনা কয়েকটা মেলা ঘোরার স্মৃতি। জলেশ্বরের চড়কের মেলা, ধরমপুরের দুর্গাপূজার মেলা আর কাজীপাড়ার মেলার কথা। মেলা জিনিষটা কি সেটা সন্তু প্রথম বুঝতে পারে ধরমপুরের দুর্গাপূজার মেলা গিয়ে। মেলায় গিয়ে কাগজের রঙ্গির চরকি প্রথম দেখে সে কত ভেবেছিলো, কিভাবে সেটা বানায় মানুষ। ভেবেছিলো বড় হয়ে নিশ্চয়ই জানতে পারবো সে। কিন্তু, বিশ্বাস করুন আজ এই মধ্য বয়সে এসেও সে জানে না, কাগজের রঙিন চরকি বানায় কিভাবে।

সেদিন সন্তু বানীপুরের মেলায় গিয়েছিলো। হাটতে হাটতে হঠাৎ শৈশব এসে দাঁড়ালো সামনে। লাল নিল হলুদ রঙের কাগজের চরকি, বনবন করে ঘুরছে ফুরফুরে হাওয়ায়। চরকিওয়ালা মেলার মাঠে দারিয়ে আছে, পাসে দাড়িয়ে চরকির গাছ। বেচাকেনা নেই, এখন শৈশব অন্য রকম। ৯০ দশকের শৈশব আর আজকের শৈশবে অনেক পার্থক্য। সন্তুর মনে হল, আজকের শৈশব এই রঙিন কাগজের চরকি কে হয় আর রঙিন দেখে না, হয়তো সাদাকালো দেখে। তাদের শৈশব কত আনন্দ পেতো সামান্য এই রঙিন কাগজের চরকি দেখে।

বয়স্ক চরকিওয়ালা পাসেই দাড়িয়ে ছিল বিড়ি হাতে, হয়তো সে সুখটান নিতে নিতে তার নিয়তির কথা ভাবছিলো। কেন জানি হয়তো তার ও আজকাল মনে হয় যে রঙিন কাগজ গুল হয়তো আর রঙিন নেই! শৈশব তো এখন আর হাত বাড়িয়ে এই কাগজের চরকি ছুতে চায় না! বাজার মন্দ, বেচাকেনা নেই। শৈশব বদলেছে, সময় বদলেছে, এবার হয়তো এই চরকিবাজি বদলানোর সময় এসেছে। বিড়ি শেষ, হতাশ মুখে চরকি কাঁধে তুলে ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে গেলো সন্তুর শৈশবের কাগজের রঙিন চরকিওয়ালা।

সঞ্জয় হুমানিয়া
১১ই জানুয়ারী ২০২৪, বারাসাত, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
★ আমার লেখায় অজস্র বানান ভুল থেকে যায়, পাঠকের চোখে পড়লে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ★

Image Courtest: Shri Photography by Kishan

+ There are no comments

Add yours