কণ্ঠস্বর

Estimated read time 1 min read

গত কাল ভেবেছিলাম একটু আগে আপিস থেকে বেরিয়ে আসবো। প্ল্যান কিছুই না, এক বন্ধু বলেছিল, একটু আগে আয় একটু কোথাও গিয়ে বসে একটু আড্ডা আর একটু জলযোগ করা যাবে। আমার টার্গেট ছিল ৬ টায় বেরিয়ে বারাসাত ৭ টায় পৌঁছাবো। মনের বেখেয়ালে ব্যাগ গুছিয়ে ল্যাপটপের সবে ঢাকনা নামতে যাবো, ওমনি Teams call এ একটা কল ঢুকলো।

আপিসের কেউ, কিন্তু অপরিচিত। রিসিভ করার পর জানতে পারলাম ওনার login নিয়ে সমস্যা, একটা সার্ভারে ঢুকতে অসুবিধা হচ্ছে।

প্রথম কথা শুরু হয় formal English দিয়েই। ওনার কথা শুনতে শুনতে আমি এদিকে কাজ শুরু করে দিয়েছি। ওনার login profile check করতে গিয়ে বুঝলাম উনি বাঙালি।

জিজ্ঞাসা করলাম, are you Bengali? উত্তজিত ভাবে উত্তর পেলাম, ” হা, আমি বাঙালি, আপনিও কি বাঙালি?”

মৃদু হেসে সম্মতি জানালাম। তারপর ওনার formal English সিকেয় উঠলো। বাংলায় শুরু হলো কথা। কাজ করতে করতে এ কথা সে কথা। আমি কিভাবে কলকাতায় ট্রান্সফার নিলাম? কলকাতার আপিস কেমন? কতজন লোক? এসব গল্প। ওনার আপিস মুম্বাইতে।

ফেশফেশে মোলায়েম কণ্ঠস্বরের উপর আমার দুর্বলতা চিরও কাল। কবে থেকে এই ভালো লাগা আমি জানি না। হয়তো শৈশব বা কৈশোর থেকে। কে এই ভালো লাগার প্রথম মানুষ জানি না। তবে চিরকাল এই মোলায়েম ফেসফেশে কণ্ঠস্বর আমাকে একটা ঘোরের মধ্যে টেনে আনে। আমি কোনো এক অজ্ঞাত মায়া জালে জড়িয়ে পড়ি।

কথা চলছে, কাজ প্রায় শেষের দিকে। ঠিক এই সময়ে উনি বললেন, ওনার ও কলকাতা ফেরার খুব ইচ্ছে। কিন্তু যেহেতু husband Mumbai এ job করেন, এক প্রকার বাধ্য হয়েও ওনাকে মুম্বাইতে job নিতে হয়েছে।

শেষ!!

আমার কাজ শেষ, ওনার সমস্যা মিটিয়ে ফেলেছি।

একই সঙ্গে আমার মায়া জলের ঘোর কেটে গেলো। আমি আবার formal English এ যন্ত্র মানবের মত বললাম,

“Madam your issue has been resolved, kindly check and confirm us by a email”

ল্যাপটপ বন্ধ করলাম। ঘড়িতে টাইম দেখলাম ৬:৪৫। লেট হয়ে গেলাম মরীচিকার পিছনে দৌড়ে। বারাসাতের প্ল্যান ও হলো না। দুদিকেই লস।

আমার গল্পটি ফুরালো, নোটে গাছটা মুড়ালো।

সঞ্জয় হুমানিয়া
১৯/১২/২০২৩, সল্টলেক, ১৯/১২/২০২৩

★ আমার লেখায় অজস্র বানান ভুল থেকে যায়, পাঠকের চোখে পড়লে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ★

+ There are no comments

Add yours